সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা জেলা শিল্পকলা একাডেমির গুণীজন সম্মাননা প্রদান আজ জুলাই শহীদ দিবস পালন সরকার জনগণের সাথে বেইমানি করেছে বর্ণাঢ্য রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল ছাতকের জলাশয়ে মিলছে রাক্ষুসে সাকার মাছ! জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক মেজর ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার

শাল্লায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং, পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন

  • আপলোড সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৯:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৯:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন
শাল্লায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং, পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন
স্টাফ রিপোর্টার :: শাল্লায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব-গ্রুপিংয়ে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই উপজেলা শহীদ মিনারের সামনে দুপুরে এক সাধারণ সভার মাধ্যমে লক্ষীপাশা সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি সরকারকে সভাপতি ও সুলতানপুর সপ্রাবি’র সহকারী শিক্ষিক মোস্তাক মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি শাল্লা উপজেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়। এরপূর্বে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অন্য একটি গ্রুপ প্রতাপপুর সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার দাশকে সভাপতি ও সহদেবপাশা সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত কুমার দাসকে সাধারণ স¤পাদক করে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাসেম-শাহীন) নামে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকদের অপর একটি সমিতি নিয়ে উপজেলায় কমিটি দাঁড়াল তিনটিতে। উল্লেখ্য, শাল্লা উপজেলায় ১০৭টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৪৪০জন। এদিকে, এসব পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করতে দেখে কোনো কোনো শিক্ষক দুঃখ প্রকাশ করেন। আবার অনেকই এসব দলাদলির সমিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, শিক্ষকরা এমন একজন গুরু, যারা পশুস্বভাব থেকে সুশিক্ষার মাধ্যমে মানুষ গড়ে তোলে। এখন তারাই যদি নেতৃত্ব আর স্বার্থের লোভে দলাদলি শুরু করে, তাহলে সমাজকে কি বার্তা দেয়া হল? মানুষ গড়ার কারিগররা কখনও গ্রুপিংয়ের কারিগর হতে পারে না। হিংসা দ্বেষ থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষক পেশাটা কিন্তু মহান। সুতরাং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন ঐক্যই বল, বিচ্ছিন্নতাই দুর্বলতা। গ্রুপিং দ্বন্দ্বের রাশ এখন টেনে না ধরলে, তা ক্রমান্বয়ে লাগামছাড়া হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন ওই গুণী শিক্ষক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি শাল্লা শাখার সভাপতি সুব্রত কুমার দাশ বলেন, আমাদের ৫১ বিশিষ্ট সমিতি অনুমোদিত। অপর পক্ষের শিক্ষকগণ বিগতদিনে সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের সংগঠন স¤পর্কে বলেছিল বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নামে কোনো সংগঠন নাই। তাদের দৃষ্টিতে আমাদের সমিতি ছিল অবৈধ। কিন্তু তাদের সমিতি এখন বৈধ হল কীভাবে? এখন তো দেখা যাচ্ছে তাদেরটাই অবৈধ। উপজেলা পর্যায়ে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কোনো কমিটি হয়না। আমরা সমিতি গঠন করার পূর্বে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, তারা আসেননি। আমাদের সভায় ৮৭জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন আর তাদের সভায় ৯৩জন। এই পাল্টা কমিটি শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনিয়ে ওই কমিটির উপদেষ্টা ও ডুমরা রসিকলাল সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক লোকেশ দাশ বলেন, সম্মিলিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গঠনের লক্ষ্যে গত বছরের ১১ নভেম্বর একটি প্রস্তাব করেছিলেন শিক্ষক অনাদি তালুকদার। পরে ৯ ডিসেম্বর আরেকটি সভা হয়। সেখানে তারা প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করেন। তবে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে। তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু আমি তো সরাসরি প্রধান শিক্ষক। সেই সমিতি গঠনের সময় আমাকে তারা জানাননি। গ্রুপিং দ্বন্দ্বের শুরুটা এখান থেকেই তৈরি। পরে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি আমার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাসেম-শাহীন) গঠিত হয়। গ্রুপিং দ্বন্দ্বের শুরুটা তারাই প্রথম করেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই সমিতির উপদেষ্টা। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ স¤পাদক ও উজানগাঁও সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিক্ষক লোকেশ দাশকে না জানানোর বিষয়ে আমরা পরবর্তী সভায় দুঃখ প্রকাশ করেছি। তিনি তখন বিষয়টি মেনেও নিয়েছেন। তারপরও তারা কমিটি করল। আমরা তো সবাইকে নিয়েই কমিটি গঠন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা কয়েকজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করলেন। এ বিষয়ে উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতির নবগঠিত কমিটির সভাপতি মনোজ কান্তি সরকার বলেন, আমরা সবাইকে জানিয়েই কমিটি করেছি। কমিটি গঠনে উপস্থিত ছিলেন আড়াইশো থেকে তিনশো শিক্ষক। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অবৈধ বললে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা শিক্ষক। কেউ বললেও শিক্ষক, না বললেও শিক্ষক। ৫১ সদস্য, ৭১ সদস্য অথবা ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা যায়, তা নির্ভর করে শিক্ষক সংখ্যার উপর। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হোক তা তিনিও চাননি বলে জানান মনোজ কান্তি সরকার। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং খুবই দুঃখজনক। তবে একাধিক সমিতি গঠন করার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। এনিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রমে কোনোরূপ গাফিলতি হলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স